ফান্দে

বিষয়: অস্ত্র উদ্ধার -আটক!

 আমল:: চারদলীয় জোট সরকার।
এলিটমেন্টস :: ১০ ট্রাক অস্ত্র।
যাদের ঘিরে কাহিনীর বিস্তৃতি :: উলফা!
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী:: উই আর লুকিং ফর শত্রুজ।
অথর: আরএবি।

ফলাফাল: ফান্দে পড়িয়া বিম্পি জামায়াত কান্দে রে।

আমল:: বাম অ্যান্ড সেক্যুলার।
এলিমন্টেস: সাতছড়িতে অস্ত্রের খনি।
যাদের ঘিরে কাহিনীর বিস্তৃতি :: উলফা!
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী :: দেখতাছি ঘটনাটা।
অথর: আরএবি

সম্ভাব্য ফলাফাল:: ফান্দে পড়িবার আশঙ্কা!

পাবলিক: এইডা কি অইলো!


উপসংহার:: উনারা ভালো গল্পকার, সক্ষম উদ্ধারকারী। রাজনীতিতে নতুন এলিমেন্টস যুক্ত করে জাতিকে ধন্য করেন। রাষ্ট্রের চিকিৎসা খাতে সরকারের খরচ কমিয়ে আনতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। তাই উনাদের টিকিয়ে রাখতে হবে যে কোনো মূল্যে!




 

জীবন থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা সবাইকে দয়া করো প্রভু

সব সময় একটা কথা বলতাম, এখনো বলি- সবাইকে বলি। বাঁচো, নতুন আশায়। তোমার সামনে অনাগত ভবিষ্যত। হতাশা আসে ক্যামনে। এগিয়ে যাও। দু'চোখ মেলে চাও উদার আকাশ। দেখো অনন্ত  জোছনায় ভিজে যাচ্ছে বঙ্গপোসাগার। বৃষ্টিতে ভিজে যাচ্ছে পাহাড়-নগর-নদী। ভাটি বাংলার রূপ মাধুর্য দেখেই একটা দীর্ঘ জীবন পার করে দেয়া যায়।

মাদক, বিচ্ছেদ, জীবন থেকে পালিয়ে বেড়ানো কিম্বা নিজেকে হত্যার  কোনো কিছুই এখানে আসতে পারে না। এমন দেশে যার জন্ম যেখানে জোছনায় ভিজে,গেুটগুটে অন্ধকারে ছুটে চলা রিকশার নিচের  বাতির মোহনীয় আলো কিম্বা কাদামাটি মেখে গাঁয়ের মেঠোপথ ধরে হেঁটে এলে মনে হয়-  মানুষের জীবন এত ছোট কেনো? সে দেশে জন্মে কেনো আত্মহত্যা!

পর্যটন কর্মী হিসাবে গত ১৪ টি বছর এ একটি কথা বার বার বলছি। পর্যটন সংগঠন ডিইউটিএস'র কর্মীদের বলতাম, বন্ধুদের বলেছি, এখনো বলি, যেখানে যাই, যার সাথেই বসি এ কথাটি বলি। নিজেকে ভালোবাসো।

 ট্যুরিস্ট সোসাইটি আমার দ্বিতীয় প্রেম। সে প্রেমময় পরিবারের সদস্যদের সাথে সম্পর্ক আমার রক্তের নয়, কিন্তু তারচেয়েও বেশি। আমাকে যারা পছন্দ করতো, বা করতো না- আমি তাদের সবাইকে ভালোবাসি। তাদের সুখ-মঙ্গল এবং হাসিমাখা মুখটা মনে করে আমি জীবনের নতুন ব্যাঞ্জনা খুঁজে পাই।

বন্ধু স্বজন, যারাই হতাশ, তাদের সবাইকে বলছি- নিজেকে খুন করোনা। সে অধিখার তোমার নেই। উপভোগ করো, বাঁচো।
 তবুও কখনো কখনো খারাপ খবর আসে। কানটা ফেটে যায়। বুকটা ভেঙ্গে যায়।  জীবন কি এতই তুচ্ছ? স্রষ্টার দানটা কী এতই ক্ষুদ্র? কেনো উপভোগ করো না জীবন!

আশাহত মানুষ নই আমি। হতে চাইনি কোনো দিন। এত ঝড়, এত ঝঞ্ঝা, এত শঙ্কা তবুও আশায় বুক বাঁধি।

কিন্তু জীবনকে দুপায়ে ঠেলে যারা ব্যাক্তিগত ভাবে  নিজের জীবনকে হত্যা করে তাদের বিপক্ষে আমি।  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আমার খুবই ঘনিষ্ঠ দুজন  মানুষ নিজেদের হত্যা করেছে।  একজন আমার হলের, পাশের রুমে থাকতো। ছোট ভাই। সব সময় এসে  আড্ডা দিত, আমার রুমে। হল ছেড়ে আসার পর শুনি ছেলেটা আত্মহত্যা করেছে।

 মেনে নিতে পারিনি। তবুও মানতে হয়েছে। বঙ্গবন্ধু হলে বেড়ে ওঠা ছেলেটার বুকে কিসের এত হতাশা ছিল, জানি না।  জীবনকে খুন করার মত এমন হতাশা কেনো জন্মায়। জানতে চাইনি কখনো, চাইবো না। কেবল মিনতি করি, নিজেকে হত্যা করো না।

 জীবনের উৎসবের জন্য। আনন্দের জন্য। কৃতজ্ঞতার জন্য। পর্যটন কর্র্মীর বর্ণিল জীবনে আসা মাহবুব কেনো আত্মহত্যা করবে? প্রশ্নটা মাথার ভেতর বারবার এলেও উত্তর পেলাম না।

ট্যুরিস্ট সোসাইটি থেকে ২০০৬ সালে দায়িত্ব ছাড়ার আগেই মাহবুব মেম্বার হিসাবে আসে। দায়িত্ব ছাড়ার পরও বেশ কয়েকবার আমার কাছে হলে-অফিসে এসেছিল। ক্যাম্পাসে দেখা হলে অন্য দশজনের মতই এগিয়ে আসতো- সালাম দিয়ে খবর নিতো।  আমিও নিতাম। ওর সাথে শেষ দেখাটা হাকিম চত্বরে হযেছিল, আমার নিজের ও তাদের ভাবি-সন্তানদের খবর নিচ্ছিলো। বলেছিলাম- বাসায় এসো!  আসবে বলেছিল।

কিন্তু বহমান সময়, চলমান ব্যস্ততার ভেতর হয়ত সবাইকে ফোন করে খবর নেয়া হতো না  আমার। আজ মঙ্গলবার জানলাম মাহবুব নাই।  ওর বন্ধুদের সাথে কথা বল্লাম। স্বজনদের কাছে  জানতে চাইলাম।  ফেসবুকে ওর লেখাগুলো পড়লাম।
ওর বন্ধুরা বললো হতাশা। ফেসবুক  থেকেও একই ম্যাসেজ।  আত্মহত্যা কি তার কোনো সমাধান হতে পারে! জীবন থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা কি কোনো সমাধান!

দুঃখ কষ্ট ভয় আর সীমাহীন অনিশ্চয়তার ভেতর দিয়েও বাঁচতে শেখা জাতি আমরা। সে জাতির সন্তানরা এভাবে জীবন দিবে, এটা মেনে নিতে পারি না।

তৃতীয় আরেকটি খবর আমি শুনতে চাই না। ক্ষমা করো প্রভু।  তোমার করুণা ধারায় ভরে দাও সবার অন্তর। জীবন থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা সবাইকে  দয়া করো। দয়া করো। দয়া করো প্রভু।
 

কিস্তি :: ৮৫ :: রোড টু কুয়াকাটা:: ট্যুর উইথ মুরগি


কুয়াকাটা যাবার ভূত চাপলো মাথায়। সে সময় ট্যুরের জন্য পোস্টার করতাম। কাঁকড়ার চর, ফাতরার বন, আর কুয়াকাটার লাবণ্য তুলে ধরে সে পোস্টারের ডাকে ডিইউটিএস'র মেম্বারের বাইরে আরো ক'জন এলেন। বছরের শেষ দিকে সে ট্যুর। সালটা সম্ভবত ২০০৪।

সব মিলিয়ে লোক হলো ১৩ কি চৌদ্দজন।  সেটি ট্যুরিস্ট সোসাইটি থেকে প্রথম ট্যুর যে ট্যুরে বাবু ছিল না।  আমাদের সাথী হলো মৌ, মামুন, তুহিনসহ আরো অনেকে।

কুয়াকাটা যাবার রাস্তাটা কষ্টের। কোনো সন্দেহ নেই। সে সময় সরাসরি একটা বাসই যেতো, সেটি বিআরটিসির। বাসের ডান দিকে তিনটা সিট। বাম দিকে দুটো।

আমরা বাম দিকের সিটগুলো কাটলাম। বাসে উঠলাম গাবতলী থেকে।  ডান পাশের সিটে  মুরগী। খাঁচাবন্দী মুরগীগুলো মাজে মধ্যে ওড়াওড়ি করছে। কক করে ডাকছেও । আমরা ছুটে চলেছি।

পথে ফরিদপুরের এক রাস্তায় বাস দাঁড়ালো। লম্বা জ্যাম। আমরা সবাই নেমে এলাম। দেখলাম রাস্তার পাশে দুধ বিক্রি হচ্ছে। গরম দুধ আর বিস্কুট খেয়ে  আমরা আবার উঠে দাঁড়ালাম। বাসে উঠে বসে আছি। বাস চলছে। রাস্তার অবস্থা খারাপ।  হেলে দুলে বাসে বাসে আমাদের মধ্যরাত হলো  একটা কলেজের পাশে।

বর্ষ বিদায় জানানোর জন্য সবাই নেমে এলাম সেখানে।  বেশ খানিকটা সময় হৈ হুল্লোড় হলো। গান বাজনা  হলো।  মোমবাতি জেলেছিল কলেজের  শিক্ষার্থীরা।  ফের উঠে এলাম বাসে। তার আগের গল্পটা  আমরা প্রতারিত হলাম।

রাস্তার পাশে একটা  শনের বেড়া দেয়া রেস্টুরেন্টে খেতে বসলাম। যা মন চায় খাও। খেতে শুরু করলাম, ডিম, মাছ, বেশি করে তেলে ডোবানো সবজি। খাবার শেষ করার আগেই বাস ছেড়ে দিচ্ছে। পড়ি মরি করে ছুটতে গিয়ে  খাবারে বিল তিনগুণ শোধ করেছি।

সকাল ৮ টার দিকে আমরা নামলাম  কুয়াকাটায়।  থার্টিফাস্ট উপলক্ষে যে রকম ভিড় আশা করেছিলাম, সেটি নেই। আমরা একটা হোটেলের সন্ধানে বের হলাম। এর মধ্যে রাস্তার পাশে সকালের নাশতা। মাত্র বারো টাকা হারে সেরে নিয়ে চা খাচ্ছে কেউ কেউ।

হোটেল সাগরপারের তিনটা রুম আমরা দখল নিলাম। এটা নেবার জন্য হোটেল মালিকের বাড়ি যেতে হয়েছে। প্রথম বলল রুম নেই। আমরা বল্লাম তাহলে আপনার বাড়িতে থাকি। শেষ পর্যন্ত পটিয়ে আড়াইশ টাকা দরে রুম গুলো নেয়া হলো।

রুমে ওঠার পর ফ্রেশ হয়ে আমরা ছুটলাম সৈকতে। ভ্যানে চড়ে  যাওয়া  হলো। ভেজাভেজি হলো ভীষণ। তারপর দুপুর। 'ভাত ঘর' নামে একটা রেস্তোরা পাওয়া গেলো। এর মেইন শাখা ছিল ঢাকার রামকৃষ্ণ মিশন রোড়ে। দুপুরে পেট পুরে খাবার খেলাম-মাত্র ৩৮ টাকায়।

রাতে খাবারের বার বি কিউ করার জন্য একটা কোরাল মাছ অর্ডার করা হলো । সেটি দেড় কেজি ওজনের। দাম  দেড়শ টাকা। এটা একেবারে রেডি করে দেয়া পর্যন্ত  খরচ।

কুয়াকাটার বিকালটাও দারুণ কাটলো। বিচে ঘুরে বেড়ালাম আমরা। সন্ধ্যার  দিকে আমরা ভ্যানে করে লোকাল একটা বাজারে গেলাম। সেখানে  একটা নতুন সিনেমা হল। তাতে সিনেমা দেখার আয়োজন। সিনেমা দেখার পর ফিরে এলাম কুয়াকাটায়।

রাত সাড়ে ১২ টা। প্রচণ্ড কুয়াশায় ঢেকে আছে সব। মাছ আনা হলো। কিন্তু  পোড়ানোর আয়োজন  নেই। হোটেলের সামনে  খোলা মাঠে আগুন ধরছে না।  কেরোসিন আনা হলো।  কিন্তু আগুন জ্বলে না। পাশের সুপারি  গাছের পাতা পোড়ানো হলো, ভেজা কাঠ কিছুতেই মাছ পোড়ার যুতসই হচ্ছে না।  শেষ পর্যন্ত মামুন পাশের ওষুধ দোকানের ঝাঁপ ওঠানোর বাশের লাঠি নিয়ে আসলো।  সেটি দিয়ে পুরো মাছ পোড়ানোর আয়োজন।

রাত দুটায় মৎস্য ভক্ষণ পর্ব শেষে আমরা বিচে গেলাম। অন্ধকার বিচে  কেবল সমুদ্রের গর্জন ছাড়া কিছুই  কানে আসছে না। এ রকম দুর্দমনীয় আনন্দ-উপভোগ্য রাত, খুব কম সময় দেখা হয়েছে।

ভোরের দিকে আমরা ফের হোটেলে।   সকালে দেখলাম ওষুধের দোকানি এসে ঝাঁপ ওঠাতে না পেরে বকাবকি করছে। আমরা চুপ চাপ। কিছুই হয়নি, এমন ভান করে ঘুরে বেড়াচ্ছি। এর মধ্যে মামুন গিয়ে কয়েকটা প্যারাসিটামল নিয়ে এলো। দোকানির সাথে গল্পও করে এলো।

সকালের নাশতা সেরে ফের আমরা  বিচে। সেখান থেকে  বৌদ্ধবিহার হয়ে মহিলা মার্কেটে। মহিলা মার্কেট মানে মহিলা বিক্রি নয়! এটি চালাতেন মহিলারা। এ জন্য এর নাম মহিলা মার্কেট। সেখানে কেনাকাটার পর দুপুরের দিকে আমরা পটুয়াখালী ছুটলাম।

মুরগির সাথে আর ফেরা নয়। এবার লঞ্চে ফিরবো। নতুন বছরের দ্বিতীয় দিন সন্ধ্যায় লঞ্চে ওঠবো- এমন সময়  সবাই এক সাতে চিক্কুর মারলো।  যাত্রীদের চোখ আমাদের দিকে। লঞ্চের দোতলায় উঠলে একজন এগিয়ে এসে বললো- কার্পেট  লাগলে দিতে পারি। বল্লাম-'ট্যাকা নাই। দিবা কিনা ভাইবা লও।'

কার্পেট এসে পড়লো।  আমরা বসে পড়লাম।  ঢাকা আসবো মাত্র ১০০ টাকায়।  সে রকম মজা। দেখলাম সবাই ঘুমানোর  আয়োজন করছে। আমরা সাপ লুডু খেলছি। লুডু খেলছি।  গান গাইতেছি। মওজ-মাস্তিতে ভরপুর পুরা রাত।  ঘুমের ডিস্টার্ব হলো অনেকের। এর মধ্যে একবার সবাই মিলে রাতের খাবার খেতে গেলাম লঞ্চের  রেস্টুরেন্টে।  চল্লিশ টাকা প্রতি রাতের বাধ্য গ্রহণ পর্ব শেষে আবারো আড্ডা।

মধ্যরাতে  লঞ্চটা কাত হয়ে গেলো। দ্রিম দ্রিম আওয়াজ হচ্ছে।  বের হয়ে দেখলাম যাত্রাবাড়ি- গাবতলী রুটের আট নম্বর বাসের মত কে কার আগে যাবে সে জন্য লঞ্চ  দুটো  কম্পিটিশন চলছে।  অন্য যাত্রীদের কোনো ভাবনা নেই।

আমরাও আর বাবলাম না। লঞ্চের ডেকে, ছাদে  আড্ডায় রাত কেটে গেলো। সকাল বেলা আমরা সদরঘাট। ফিরলাম-ক্যাম্পাসে!